Wednesday , 20 October 2021
Home / খবর / যুদ্ধে যাওয়ার গল্প ‘অসমাপ্ত’ – Binodonnews24

যুদ্ধে যাওয়ার গল্প ‘অসমাপ্ত’ – Binodonnews24


ঢাকা, ২৬ মার্চ – বাবা চান যত দ্রুত সম্ভব মুনিরের বিয়েটা সেরে ফেলতে। কারণ সময়টা ভালো নয়। পাকিস্তানের শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। জোয়ান ছেলেরা সব মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। একমাত্র ছেলেকে যে কোনো উপায়ে আটকাতে চান বাবা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আরটিভিতে প্রচার হবে এমন গল্পে বিশেষ নাটক ‘অসমাপ্ত’। সারওয়ার রেজা জিমির রচনা থেকে পরিচালনা করেছেন তুহিন হোসেন। অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, মেহজাবিন চৌধুরী প্রমুখ।

এরপর দেখা যাবে— পাশের গ্রামেরই এক গেরস্থের মেয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ পাকা করে দিন তারিখ ঠিক করে এসেছেন মুনিরের বাবা। মেয়ে শিক্ষিত। কলেজে পড়ে। দু’দিন পরই বিয়ে।

আরও পড়ুন : ৫০- এ বিপাশা হায়াত

মুনির মেয়ের ছবি দেখেছে। ভারী মিষ্টি দেখতে। এমনিতে বিয়েতে তার তেমন আপত্তি ছিল না। মেয়েটির ছবি সামনে নিয়ে বসে সে যে একটু আধটু সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখে ফেলেনি তাও নয়। কিন্তু এই সময়টাতে বিয়ে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। সারা দেশ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। আর সে কিনা শিক্ষিত একটা ছেলে হয়ে এ সময় বিয়ে করে বউয়ের সঙ্গে খুনসুটি করবে! আবার বদরাগী বাবাকে মুখের ওপর না করার সাহসও নেই তার।

ঠিক বিয়ের আগের রাতে মুনির মনস্থির করে ফেলে, সে যুদ্ধে যাবে। বাবা-মা’র অনুমতি পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং সে ঠিক করে, একটা চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়ে রাতের আঁধারে পালাবে। চিঠি লিখতে বসে মুনির। সামনে পড়ে থাকে সালেহার ছবিটা। মাঝে মাঝেই সেদিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয় সে। যেন এই মেয়েটার প্রতিও সে অন্যায় করছে । মনে মনে ঠিক করে মুনির, যুদ্ধ শেষে বীরের বেশে যেদিন ফিরবে, সালেহাকে খুঁজে বের করে আবার বিয়ের প্রস্তাব দেবে। বাবাকে লেখা চিঠিতেও তা-ই লেখে। তারপর একটা ছোট্ট ব্যাগে কয়েকটা কাপড় আর কিছু টাকা নিয়ে অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ে।

নদীর ঘাটে পৌঁছায় মুনির। আবছা আলোয় ঠাহর হয় একটা নৌকা। ছেড়ে দেবে এক্ষুনি। দৌড়ে এসে ওঠে। নরেন মাঝির নৌকাই বটে। নৌকায় উঠে সে টের পায় তাতে আরেকটি মানুষ আগে থেকে উঠে বসে আছে। আপাদমস্তক ঢাকা। আর কেউ নেই।

নরেন মাঝি মুনিরকে চিনতে পেরে নাম ধরে ডেকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাবে। মুনিরের নাম শুনে অন্য মানুষটি যেন একটু নড়ে চড়ে বসে। মুনির সেদিকে খেয়াল না করে নরেনকে জানায় তার উদ্দেশ্যের কথা।

এইবার মুখ ঢেকে বসে থাকা মানুষটি ঘুরে বসে। মুখের কাপড়টা সরায়। লণ্ঠনের মৃদু আলোয় মুনির সেই মুখ দেখে চমকে ওঠে। সালেহা! কিছুক্ষণ দুজনের মুখেই কথা সরে না। এরপর সালেহা নিচু স্বরে বলে, সেও বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। দেশের এই দুঃসময়ে সে বিয়ে করতে রাজি নয়। বরং সে যুদ্ধ করতে চায়। আর সে কারণেই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে বাসায় একইভাবে চিঠি লিখে রেখে এসেছে সে।

মাঝনদীতে সেদিন অদ্ভুত একটা ভোর হয়। রক্তরং সূর্যটা জানিয়ে যায়, যে দেশে এমন ছেলে মেয়ে আছে, সেদিনের স্বাধীনতা বেশি দূরে নয়।

‘অসমাপ্ত’ প্রচার হবে আজ রাত ৮টায়।

এন এইচ, ২৬ মার্চ





web hit counter