Thursday , 28 October 2021
Home / খবর / আজ পয়লা বৈশাখ

আজ পয়লা বৈশাখ


আজ বুধবার পয়লা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বর্ষ ১৪২৮। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি- এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে নতুনের আহ্বান জানায় বাঙালি। বাঙালি যে বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, বর্ষবরণে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়।

অন্যদিকে পয়লা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। এদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

পয়লা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতার কথা দেশ। কিন্তু গত বছরের ন্যায় এবারও বাঙালিরা করোনার কারণে নতুন বছরকে বরণ করে নেবে তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া। সংক্রমণ অনেক বেশি হওয়ায় বর্ষবরণ উৎসবের উপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমুলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি, এবারও হচ্ছে না নতুন বছরের বন্দনা। তবে এ উপলক্ষে নতুন কিছু গান রেকর্ড করা হয়েছে। নববর্ষের দিন সকালে এ গানগুলোসহ সংগঠনের সভাপতি সনজীদা খাতুনের ‘কথন’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।

বেসরকারি টেলিভিশন গুলোতেও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে।
এক সময় নববর্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির। মূল উৎসব ছিল হালখাতা। পরে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সন গণনার শুরু হয়। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। তবে এবার এ শোভাযাত্রা হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাত্র ১০০ জনের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। তবে বাইরে বেরোবে না এবং প্রবেশ সংরক্ষিত থাকবে। এবারের শোভাযাত্রার থিম নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর’। এ উপলক্ষে তৈরি হয়েছে মুখোশ, আঁকা হয়েছে বিভিন্ন আলপনা। আর চারুকলার প্রাচীরও রাঙানো হয়েছে বিভিন্ন আলপনায়। বৈশাখী উৎসবে সবাই অংশগ্রহণ করতে না পারলেও অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করা হবে।

দেশে-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, এমন একটা সময়ে বাংলা নববর্ষের দিনটি অতিবাহিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব করোনার সংক্রমণে বিপর্যস্ত। তাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনা থেকে রক্ষা করা। সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতনভাবে করোনা মোকাবিলার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতের সব গ্লানি ও বিভেদ ভুলে বাংলা নববর্ষ জাতীয় জীবনে সর্বক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে। সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও সুন্দরের জয় হোক। ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর হোক, নতুন বছর নিয়ে আসুক সুখ ও সমৃদ্ধি এ প্রত্যাশা করি।

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছরও আমরা কোনো অনুষ্ঠান করতে পারছি না। তাই পয়লা বৈশাখের আনন্দ এবারও ঘরে বসেই উপভোগ করব। টেলিভিশন চ্যানেলসহ নানা মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। এছাড়াও আমরা নিজেরাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করতে পারি।

পয়লা বৈশাখের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ আমাদের সব সঙ্কীর্ণতা, কূপমণ্ডূকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। নতুন উদ্যমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের যে প্রান্তেই বাঙালি জনগোষ্ঠী বসবাস করেন; সেখানেই বর্ষবরণসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালি লোকসংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে। পৃথিবী জুড়ে তৈরি হচ্ছে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির সেতুবন্ধন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলা ভাষাভাষীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা প্রতিরোধযুদ্ধে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে। স্বাস্থ্যরক্ষায় সরকারি নির্দেশনা ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে মহামারীর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হোক নতুন বছরের অন্যতম অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ডিজিটাল বাংলাদেশের আশীর্বাদে অনলাইনে বর্ষবরণ হোক নিজস্ব সংস্কৃতি আর আনন্দের রূপকার।

সূত্র: বিনোদন২৪.কম





web hit counter