Thursday , 2 December 2021
Home / খবর / আইয়ুব বাচ্চু: রুপালি গিটার ফেলে চলে যাওয়ার তিন বছর

আইয়ুব বাচ্চু: রুপালি গিটার ফেলে চলে যাওয়ার তিন বছর


ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – ‘এই রুপালি গিটার ফেলে, একদিন চলে যাব দূরে, বহুদূরে সেদিন চোখের অশ্রু তুমি রেখ গোপন করে’ গানের কথাগুলো মনে করিয়ে দেয় বাংলা রক গায়ক-গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর আসলেই রুপালি গিটার ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান এই বাংলা রক পুরোধা। এই কিংবদন্তির ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার।

দিনকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু স্থানে আয়োজন থাকছে। আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার জানায়, কয়েকটি এতিমখানায় খাবার পরিবেশন ছাড়াও দোয়া অনুষ্ঠান হবে।

প্রয়াতের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে দোয়ার আয়োজন করি। এবারও করবো। এছাড়া কয়েকটি এতিমখানায় বাচ্চাদের জন্য খাবার পাঠানো হবে।’

এদিকে, আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম মিউজিসিয়ান’স ক্লাব। রাজধানীর মগবাজারের একটি কমিউনিটি পয়েন্টে সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় এটি হবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামেও পরিচিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের স্টুডিওর নাম- এবি কিচেন।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’। এর কথা ও সুর তারই। শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি।

রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানও জনপ্রিয়।

এম ইউ/১৮ অক্টোবর ২০২১





web hit counter