Thursday , 2 December 2021
Home / খবর / বিক্রি হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চুর টি-শার্ট

বিক্রি হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চুর টি-শার্ট


ঢাকা, ১৮ নভেম্বর – প্রয়াত কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে তার পরিবার। যা বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল। তাই এবার এলআরবির টি-শার্ট বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এলআরবির পেজ থেকে জানানো হয়, ‘কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অবসর মেলেনি কখনো। কখনো এক শহর থেকে আরেক শহর, এক মঞ্চ ছেড়ে আরেক মঞ্চ অথবা কখনো এক দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশের সীমানায় ছুটে বেড়িয়েছেন পুরোটা জীবন জুড়ে। আইয়ুব বাচ্চু শেষ সময় গুলিতে তার ভক্তদের সাথে কাটানো সময়গুলি উপভোগ করতেন। ভক্তদের আবদার রাখার তাগিদেই শেষ দিকে তার নিজের তত্ত্বাবধানে এবি কিচেনের বেশ কিছু ফ্যান কালেটিবলস টিশার্ট তৈরি করেছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু তার নিজের হাতেই এই টিশার্টগুলির কিছু অংশ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে তার কাছের বন্ধু ও ভক্তদের উপহার দিয়েছেন। এমনকি কিংবদন্তি ও তার প্রাক্তন ব্যান্ড মেম্বাররাও এই টিশার্টগুলি পরে অনেক কনসার্ট ও স্টুডিও শোতে উপস্থিত হয়েছেন। টিশার্টগুলি এত বছর ধরে অন্যান্য স্মৃতি স্মারকের সঙ্গে সংরক্ষিত ছিল আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের কাছে। এবি কিচেন সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই টিশার্টগুলি ভক্ত অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত করতে।’

তারা জানায়, টিশার্টগুলি ‘বাংলার গঞ্জি টি অব বেঙ্গল’ নামের অফিশিয়াল অনলাইনে স্টোরে পাওয়া যাবে।

এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা আক্তার জানান, এবি কিচেনে ছিল আইয়ুব বাচ্চুর ৪০টি গিটার। যেগুলো বিশ্বের নানা স্থান থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এই গিটার লিজেন্ড। ইচ্ছে ছিল এগুলো দিয়ে জাদুঘর করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি গিটারগুলো ওপেন করে দিতে। জাদুঘর করতে। আইয়ুব বাচ্চুও এটাই চাইতেন। তবে এখানে প্রচুর খরচ আছে। যেতে হবে অনেক জায়গায়। দেখি কতটা পেতে পারি! সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ হোক- অনেকেরই এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে।’

উল্লেখ্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো, ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

এন এইচ, ১৮ নভেম্বর





web hit counter