Thursday , 1 December 2022
Home / টালিউড / ৩ বছর পর মঞ্চে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব, সমাপনী কাল |

৩ বছর পর মঞ্চে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব, সমাপনী কাল |


৩৩তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব।

তিন বছর পর মঞ্চে ফিরেছে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা আয়োজিত দুই দিনের এই উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।  

‘এই জীবনে ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সম্মাননা দেওয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শব্দসৈনিক বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলমকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননাপত্র, স্মারক ও উপহার।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম খালিদ বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকরা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। সে রকম দুজন শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম ও রফিকুল আলমকে সম্মান জানানো নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য উদ্যোগ। ‘

উৎসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৩৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় উৎসবের আয়োজন করেছে। এ রকম আয়োজন আমাদের সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ করে। ‘

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযুষ বড়ুয়া। সম্মাননাপ্রাপ্ত দুই শিল্পী আশরাফুল আলম ও রফিকুল আলমের শংসাবচন পাঠ করেন শিল্পী সীমা সরকার ও সাগরিকা জামালী।

পীযুষ বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার বয়স ৩৪ বছর। প্রতিবছর আমরা জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব করে আসছি। কিন্তু কভিড এসে আমাদের সুন্দর জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা পর পর তিন বছর মঞ্চে উৎসবের আয়োজন করতে পারিনি। এবার ৩৩তম জাতীয় উৎসবের পর জানুয়ারি মাসে বৃহৎভাবে ৩৪তম উৎসব আয়োজন করব। ‘

সম্মাননা প্রাপ্ত বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। তাঁর বিপুল কর্মব্যাপ্তি। সেই রবীন্দ্রনাথের নামযুক্ত সংস্থার দেওয়া সম্মাননা পেয়ে আমি সম্মানিত ও গৌরব বোধ করছি। ‘

রফিকুল আলম বলেন, ‘নানা কারণে এই সম্মাননা আমার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। জীবনে এই প্রথম আমি এ ধরনের সম্মাননা পেলাম। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমরা যা করেছি, সেসব বেশ কঠিন ছিল। এই সম্মাননা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। আমার সংগীতজীবন শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। অজিত রায়ের কাছে পেয়েছি রবীন্দ্রসংগীতের তালিম। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সনজিদা খাতুনের নেতৃত্বে একটি মিউজিক স্কোয়াড গঠন করা হয়। গানে গানে মুক্তির কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করেছিল সেই স্কোয়াড। ‘

সমবেত কণ্ঠে জাতীয়সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এ ছাড়া সমবেত কণ্ঠে ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’, ‘তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারই পারে’সহ হৃদয়গ্রাহী কিছু গান গেয়ে শোনান শিল্পীরা। একক কণ্ঠে দুটি গান গেয়ে শোনান শিল্পী রফিকুল আলমও। সকাল দশটায় উদ্বোধনী আয়োজনের পর বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টায় শুরু হয় আরেকদফা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান।

উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিন শনিবার বিকেল ৫টা থেকে একই মিলনায়তনে থাকবে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের উৎসবে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ শিল্পীর একক ও সমবেত পরিবেশনা উপভোগ করা যাবে। বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলাম প্রমুখ শিল্পীরা উৎসবকে মাতিয়ে রাখবেন। দুই দিনের এই আয়োজনে বাচিক শিল্পীদের মধ্যে আশরাফুল আলম, জয়ন্ত রায়, বেলায়েত হেসেন, মাহমুদা আখতার, রেজিওয়ালী লীনা প্রমুখ কবিতামুখর সন্ধ্যা উপহার দেবেন।

উদ্বোধনী দিনে পরিবেশনায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলো সুরতীর্থ, সঙ্গীতভবন, বিশ্ববীণা, বুলবুল লতিকলা একাডেমি (বাফা) ও উত্তরারণ। ৩৩তম এ উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে প্রয়াত শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি।





web hit counter